ন্যাভিগেশন মেনু

সেতুর জন্য ৫০ বছর অপেক্ষায় জয়মোহন পাড়াবাসী


বান্দরবান সদর থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে ৩নং বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জয়মোহন পাড়া। এই পাড়ার পাইনছড়া খালের উপর একটি সেতুর জন্য ৫০ বছরের বেশি সময় অপেক্ষায় আছেন পাড়াবাসী।

এই পড়ার সবাই জুমিয়া ও কৃষিজীবী। এই পাড়ার পাশাপাশি আরেকটি বাঙালিপাড়া, পাহাড়ি-বাঙালি মিলে ২৬টি পরিবারের বসবাস। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন সরকার কাপ্তাইয়ের উদ্বাস্তু ২৮ পরিবারকে এখানে পূনর্বাসন করে। বিভিন্ন কারণে কিছু পরিবার অন্যত্র চলে গেলেও অধিকাংশ পরিবার জয়মোহন পাড়ায় স্থায়ীভাবে থেকে যায়।

পাড়াবাসীর নিত্যদিনের যাতায়াতের পথে পাইনছড়া খাল থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে পাড়াবাসীর যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, না হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাতাঁর কেটে খাল পার হতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চরম ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়।

ফলে বিদ্যালয়গামী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে সময়মতো যেতে পারেনা। মূমুর্ষ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিংবা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ খুবই কষ্টসাধ্য হয়। এমনকি পাড়ায় মানুষ মারা গেলে মরদেহ সৎকার নিয়ে যেতেও ভোগান্তির সীমা থাকেনা।

গৃহিনী কুঞ্জলতা চাকমা বাংলাদেশ পোস্টকে বলেন, সকালে কাজে গিয়ে দুপুরে প্রবল বৃষ্টিতে খালের পানি বেড়ে গেলে সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। তখন বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করতে হয় নতুবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। একটি ব্রিজ হলে পাড়াবাসী খুবই উপকৃত হতো।

পাড়াবাসী গুরুল কান্তি চাকমা, মংসাহ্লা মার্মা, শৈহ্লা চিং মার্মা প্রমূখ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় একটি ব্রিজের জন্য বিভিন্ন সময় আবেদন নিবেদন করেছি কোনও কাজ হয়নি।

৩নং বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবুখয় মার্মা বলেন, 'পিআইও ব্রিজ দেওয়ার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন। পিআইও থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ ফুট দীর্ঘ ব্রিজ করা যায় কিন্তু জয়মোহন পাড়ার জন্য পাইনছড়া খালে কমপক্ষে ১২০ ফুট ব্রিজ প্রয়োজন। পিআাইও'র প্রকল্প বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে ব্রিজটি আর করা সম্ভব হয়নি।' 

সর্বশেষ গত ২০১৯ সালের ৫ মার্চ চেয়ারম্যান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটি বরাবরে পাহাড়ি-বাঙালি ২৬টি পরিবারের যৌথ স্বাক্ষরে জয়মোহন পাড়ার সম্মুখে একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। তাই জয়মোহন পাড়াবাসী পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং-এর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এসসি/সিবি/এডিবি/