NAVIGATION MENU

মার্সেনারিজঃ দক্ষিন এশিয়ায় সেরা


ই-স্পোর্টস বা ইলেক্ট্রনিক স্পোর্টস অনলাইন টুর্নামেন্ট এখন সারাবিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়, যেখানে বাস্তব খেলার মতো প্রতিযোগিতার হয় অনলাইন জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেয়ার গেমের। বর্তমানে জনপ্রিয় গেমিং টাইটেলের মধ্যে আছে PUBG, Fortnite, CS:GO, Overwatch, Call of duty, FIFA, League of Legends, Rainbow Six Siege ইত্যাদি। কয়েক বছর হলো UbiSoft এর ব্যানারে বানানো Tom Clancy এর সবথেকে জনপ্রিয় গেম Rainbow Six Siege সারাবিশ্বে বিভিন্ন জোন অনুযায়ী ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছে। সারাবিশ্বে লাখ লাখ প্লেয়ার তাদের গেমিং টিম/ক্লানের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট গুলোয় অংশগ্রহণ করে। আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই এই প্রতিযোগিতায়। দেশের অন্যতম বড় ই-স্পোর্টস ক্লান মার্সেনারিজ বরাবরই এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছে। জয়ের ক্ষেত্রে বরাবরই তারা অদম্য। শক্তি, আবেগ এবং অদম্যতাই মার্সেনারিজ প্লেয়ারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর প্রমাণ তারা আরো একবার দিলো Rainbow Six Siege November Major এ ১ম স্থান অধিকার করে। বাংলাদেশি ই-স্পোর্টস গেমিং ক্লান মার্সেনারিজ এখন দক্ষিণ এশিয়ার Rainbow Six Siege এর সর্বশ্রেষ্ঠ দল।

মার্সেনারিজ ‘ইউনিয়ন গেমিং’কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করে এবং গ্লোবাল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। এ বছরের জুলাইতে মার্সেনারিজ ৩-২ এ ইউনিয়ন গেমিংকে দক্ষিণ এশীয় জাতীয় পর্যায়ে পরাজিত করে আগস্ট মেজরে তাদের আসন নিশ্চিত করে। দুঃখজনক ভাবে তারা বিজয়ী হতে না পারলেও তারা থেমে থাকেনি বরং এটি তাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে ই-স্পোর্টস গেমিংয়ে রেগুলার থাকা সহজসাধ্য নয়। প্রতিবন্ধকতা রয়েছে দামি গ্রাফিক্স কার্ড, গেমিং কম্পোনেন্ট এবং গেম কিনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। আরো আছে মা বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাত বিরেতে টুর্নামেন্টে টিমের প্লেয়ারের সাথে কমিউনিকেশন করা। সকল প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে গেমারদের একটাই উদ্দেশ্য, টিমকে জেতানো।

মার্সেনারিজ ই-স্পোর্টস গেমিং এর যাত্রায় পরাজয় বরন করেছে, হয়েছে জয়ী, অর্জন করেছে সেরা হবার অভিজ্ঞতা। Rainbow Six Siege দল গঠন এবং আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থাপনায় এ বিজয় সহজসাধ্য ছিল না। সকলের পরিশ্রম তাদেরকে বর্তমান স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। Rainbow Six Siege November Major 2020 এর বিজয়ী মার্সেনারিজ শুধু দক্ষিণ এশিয়ার মাঝে সর্বসেরাই নয় বরং তারা আমাদের দেশের গর্ব। সেদিন আর হয়তো বেশি দূরে নেই যেদিন আমাদের দেশের চাকরীর বাজারে “গেমার” টাইটেলটা চলে আসবে, আমরা সেদিনের অপেক্ষায়।  


তথ্যঃ নবিহা মায়সুন