NAVIGATION MENU

মামুনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদী ঝর্ণার মেডিক্যাল টেস্ট


হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদী ঝর্ণার মেডিক্যাল টেস্ট হলো। ‍আজ শুক্রবার ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর মামুনুলের বান্ধবী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

জান্নাত আরা ঝর্ণাকে শুক্রবার সকালে তাকে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় বাদী হয়ে ধর্ষণ  মামলা করেন।

মামলায় ঝর্ণা জানিয়েছেন, রিসোর্টকাণ্ডের পর পরিচিতদের বাসায় জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে তার বাবা-মার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। প্রথম স্বামী শহীদুলের সঙ্গে সংসার ভাঙার মাস্টারমাইন্ডও ছিল এই মামুনুল।

 সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে ফূর্তি করতে গিয়ে ধরা পড়েন মামুনুল হক। মামুনুল তাকে স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে ঝর্ণার পরিবার দাবি করেন, মামুনুল তাকে বিয়ে করেননি। বিয়ের প্রলোভনে ভোগ করেছে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার চমৎকার সম্পর্ক বিনষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ  সফরের বিরোধীতার মূল চক্রী ছিল এই মামুনুল হক।  

সোনারগাঁ থানা পুলিশ মিডিয়াকে জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

নারায়নগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন,মামুনুল হকের সঙ্গে রয়াল রিসোর্টে যে নারী ছিলেন, তিনি আজ  সকালে মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি করা হয়। তদন্ত স্বাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা দেওয়া হবে।

মামুনুল হক দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও দায়ের করা মামলায় জান্নাত নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘অসহায়ত্ব ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকেই ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল,রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।

জান্নাত বলেন, ‘তার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। আমার স্বামীর সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিলো যার কারণে বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। আমার স্বামীর সঙ্গে মতানৈক্য ছিলো। সেসবের মধ্যে মামুনুল হক আমাদের বাড়িতে এসে শহীদুল ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন।

পরে তার পরামর্শেই আমাদের বিচ্ছেদ হয়। ঝর্ণা আরও বলেন, ‘সংসার ভাঙ্গার পর আমি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় মামুনুল আমাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন।

আমি ঢাকায় চলে আসি। মামুনুল আমাকে তাঁর অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রলোভনে পা দিই।

এরপর তিনি উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় আমাকে সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।

এস এস