ন্যাভিগেশন মেনু

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার ২০ বছর – বিশ্বজুড়ে জ্বলছে চীনের চিহ্ন


২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর ‘চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডাব্লিউটিও)’য় যোগ দেয়ার প্রটোকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যার উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীনে তখন থেকেই গভীরভাবে অর্থনৈতিক বিশ্বায়নে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার পর বিগত ২০ বছরে চীন সংস্কার গভীরতর করেছে, সার্বিক উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে সক্রিয় করেছে। ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার পর বিগত ২০ বছরে সংস্থাটিতে চীনের প্রভাবশক্তি অব্যাহতভাবে উন্নত হয়েছে এবং চীন বহুপাক্ষিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

২০০১ সালের ১১ নভেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ডাব্লিউটিও’র চতুর্থ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে চীনের তখনকার বৈদেশিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী শি কুয়াংশেং চীন সরকারের পক্ষ থেকে ‘চীনের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রটোকলে’ স্বাক্ষর করেন।

“২০ বছরের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বুঝেছি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের মুহূর্ত গভীরভাবে চীন ও বিশ্বকে পরিবর্তন করেছে,” বলছিলেন প্রটোকলে স্বাক্ষর স্বচক্ষে দেখা ডাব্লিউটিও’র উপ-মহাপরিচালক চাং সিয়াংছেন।

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার পর বিগত ২০ বছরে চীনের অর্থনীতি দ্রুতউন্নত হয়েছে ও হচ্ছে। চীনের অর্থনীতি বিশ্বের ষষ্ঠ স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে; পণ্যবাণিজ্যে বিশ্বের ষষ্ঠ থেকে প্রথম স্থানে উন্নীত হয়েছে; পরিসেবা বাণিজ্যে বিশ্বের একাদশতম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে; এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে আছে।

ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জঁ-পিয়েরে রাফাখিন বলেন, ডাব্লিউটিও’তে চীনের যোগদানের পর বিগত ২০ বছরে প্রমাণিত হয়েছে যে, চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে। আর উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ করায় চূড়ান্তভাবে চীনের দ্রুত উন্নয়নত্বরান্বিত হয়েছে।

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার পর বিগত ২০ বছরে বিশ্ব চীনের সুবিধা ভাগাভাগি করতে পেরেছে। বড় বাজারের সুবিধা এবং অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনা দিয়ে চীন উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জন্য বিশাল সুযোগ ডেকে এনে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী চালিকাশক্তি যুগিয়েছে। ডাব্লিউটিও’র সাবেক উপ-মহাপরিচালক ই সিয়াওজুনের মতে, চীনের ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়া ছিল ‘পারস্পরিক কল্যাণের সর্বোত্কৃষ্ট উদাহরণ।

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার সময় দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি চীন পূরণ করেছে। চীন বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্কের হার ১৫.৩ থেকে ৭.৪ শতাংশে হ্রাস করেছে; পরিসেবা ক্ষেত্রেও চীন প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।

চীন যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সে প্রতিশ্রুতি নিশ্চয়ই পূরণ করে। আন্তর্জাতিক সমাজেও চীনের এই বৈশিষ্ট্য স্বীকৃতি পেয়েছে। ডাব্লিউটিও’র সাবেক মহা পরিচালক প্যাসকেল ল্যামি চীনের ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়া সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণকে ‘এ+’ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সংস্থায় চীনের যোগ দেওয়া ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিরাট অবদান।‘

জার্মানীর বিএমডাব্লিউ গ্রুপের চীন বিষয়ক পরিচালক নিকোলাস পিটার মনে করেন, চীনের ডাব্লিউটিও’তে যোগদান একটি সাফল্যের গল্প। পুরোপুরিভাবে বিশ্ব বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা হচ্ছে অভিন্ন সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের প্রবীণ অর্থনীতিবিদ লিয়াং কুওইয়োং বলেন, চীন ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেয়ার মাধ্যমে ভীষণভাবে সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের প্রক্রিয়া এবং চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করেছে। এটা চীন ও বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাসে খুবই তত্পর্যপূর্ণ ব্যাপার।

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার সাক্ষী হিসেবে ছিলেন সংস্থার মুখপাত্র কিথরকওয়েল। বিশ বছর আগে ডাব্লিউটিও’র চীন বিষয়ক কর্মগ্রুপের সম্মেলনে চীনের সংস্থায় যোগ দেওয়ার বৈধ কাগজপত্র নিয়ে একমত হবার দৃশ্য স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সাক্ষী। বিশ বছরে চীন দায়িত্বশীল মনোভাব দেখিয়েছে এবং সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সদস্যে পরিণত হয়েছে।”

ডাব্লিউটিও’তে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে চীন তার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের জন্য স্থিতিশীল নীতিগত লক্ষ্য বজায় রেখেছে। চীন অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের জন্য বিশ্বের জন্য বিরাট বাজার সৃষ্টি করেছে।

অর্থনৈতিক শক্তি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চীন ডাব্লিউটিও’র এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়েছে। সকল আলোচ্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ডাব্লিউটিও’তে চীনের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি সুনচেন ইয়ু বলেন, ২০০৪ সাল থেকে ডাব্লিউটিও’র কোনও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চীনকে ছাড়া হয়নি।

ডাব্লিউটিও’তে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি লি ছেংকাংয়ের মতে, চীন বহুপাক্ষিক নিয়মের গ্রাহক ও অনুগামী থেকে নিয়ম প্রণয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারীতে পরিণত হচ্ছে। চীন ইতিবাচকভাবে পরিসেবা বাণিজ্যের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা প্রণয়ন, ই-ব্যবসা, সুবিধাজনক বিনিয়োগসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রের বহুপক্ষীয় আলোচনায় যোগ দেয় এবং ডাব্লিউটিও’র সংস্কার ত্বরান্বিত করে।

২০ বছর ধরে চীন বহু পাক্ষিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থা রক্ষা করা এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে চলে, ইতিবাচকভাবে ডাব্লিউটিও-কেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থা রক্ষা করে। বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ মোকাবিলায় চীন বিশ্ব বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় ডাব্লিউটিও’র মৌলিক অবস্থান সুসংহত করার জন্য গঠনমূলক ভুমিকা পালন করেছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসময় ডাব্লিউটিও’র সদস্য হিসেবে চীন টিকার ন্যায়সঙ্গত বন্টন এবং বিশ্বের সাপ্লাই-চেইনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

চীনের ডাব্লিউটিও’তে যোগদান সংস্কার ও উন্মুক্তকরণকে শক্তি যুগিয়েছে। সিয়াও চুন বলেন: “চীনের ডাব্লিউটিও-তে যোগদান বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে এবং আজ পর্যন্ত চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।” – তথ্য চায়না মিডিয়া গ্রুপ