NAVIGATION MENU

চিনে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড


সদ্যবিদায়ী ২০২০ সালে চিনে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ দাঁড়ায় রেকর্ড ৯৯৯.৯৮ বিলিয়ন ইউয়ান, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.২ শতাংশ বেশি। গত বছর দেশটিতে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর অবদান বেড়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, চিনে পুঁজি বিনিয়োগে বিদেশিদের আগ্রহ কমে যায়নি; বরং বিনিয়োগের জন্য চিন এখনও অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। 

গত বছর চিনের সেবাখাতে বিদেশি পুঁজি ব্যবহার হয় ৭৭৬.৭৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা মোট এফডিআই’র ৭৭.৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয় ১৩.৯ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় ১১.৪ শতাংশ এবং উচ্চপ্রযুক্তি সেবাখাতে ২৮.৫ শতাংশ। এ থেকে স্পষ্ট যে, চিনের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ আরও সুসংহত হয়েছে, যা বর্তমানে চিনের অর্থনীতির দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধি থেকে উচ্চমানের উন্নয়নে রূপান্তরের চাহিদা ও ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২০ সালে সারা বিশ্বে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। কিন্তু চিন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হয়। অবশ্য এ জন্য চিনকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

প্রথমত, বিরূপ পরিস্থিতিতে চিনের ‘স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা’ বিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মহামারীর সময় চিন সরকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়ক নীতি চালু করেছে। বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব সুবিধা পেয়েছে। চিন সবার আগে মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, সবার আগে উত্পাদন ও দাপ্তরিক কাজ ফের চালু করেছে এবং সবার আগে অর্থনীতিতে সংকোচনের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আর এসবই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। গত এক বছরে এক্সনমবিল, ডেইমলার, বিএমডাব্লিউ, টয়োটা ও এলজিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি চিনে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যা চীনা বাজারের ওপর তাদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। 

বিদেশি বিনিয়োগে ব্যাপক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে চিনের উন্মুক্তকরণ বেগবান করার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে চিনে বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেতিবাচক তালিকার ধারা কমে দাঁড়ায় ৩৩টিতে এবং অবাধ বাণিজ্যের পরীক্ষামূলক এলাকায় প্রবেশের পথে বাধা কমে দাঁড়ায় ৩০টিতে। এছাড়া, চিন টানা দুই বছর ধরে ‘বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত শিল্পের তালিকা’ সংশোধন করেছে। এতে আরও বেশি নতুন ক্ষেত্র বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে আরও নতুন নতুন সুযোগ।

এ ছাড়া, চিনে বাণিজ্যের পরিবেশ আরও সুসংহত হয়েছে এবং এর ফলে চীনা বাজার আরও আকর্ষণীয় হয়েছে ও হচ্ছে। ২০২০ সালের পয়লা জানুয়ারি বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন এবং এর নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। চিনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক জরিপের ফল অনুসারে, প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান মনে করে যে, এই আইন ইতিবাচক।

চীনা বাজারের প্রতি আস্থার কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবানও হয়েছে। চিনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক জরিপ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আয় ও মুনাফা আগের বছরের সমান বা তার চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিনে তাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী। 

চলতি বছর হলো চিনের চতুর্দশ পাঁচসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সূচনার বছর। এ প্রেক্ষাপটে, উন্নয়নের নতুন কাঠামো স্থাপনের কাজ দ্রুততর করছে চিন। ভবিষ্যতে চিন নিজেকে আরও উন্মুক্ত করবে। উন্নয়নের সুফল ভাগাভাগির করার জন্য চিন আরও বেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানাবে। আর এভাবেই বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে শক্তি যোগাবে চিন। - সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ