NAVIGATION MENU

চাঁদের নমুনাসহ পৃথিবীতে ফিরলো ‘ছাং’এ ৫’ রিটার্নার


ওয়াং হাইমান


বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সফল চন্দ্রানুসন্ধান অভিযান করলো চিন। বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় ১৬ ডিসেম্বর রাত ১টা ৫৯ মিনিটে ‘ছাং’এ ৫’ চন্দ্রযানের রিটার্নার অন্তর্মঙ্গোলিয়ার নির্দিষ্ট এলাকায় অবতরণ করার মধ্য দিয়ে অভিযানের সফল সমাপ্তি হলো। রিটার্নার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে প্রায় ২ কেজি নমুনা। পৃথিবীর বাইরে থেকে এবারই প্রথম চিন সফলভাবে নমুনা সংগ্রহ করলো। 

চিনের চন্দ্রানুসন্ধান প্রকল্পের প্রধান এবং জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের মহাপরিচালকচাং খ্য চিয়ান ‘ছাং’এ ৫’ মিশনকে সম্পূর্ণ সফল বলে ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে ‘ছাং’এ ৫’ চন্দ্রযানের প্রায় ২০ দিনের যাত্রা শেষ হলো। 

চাঁদের মাটি ও পাথর বহনকারী রিটার্নারকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পর্যন্ত বহন করে নিয়ে আসে অরবিটার। বুধবার মধ্যরাতে রিটার্নারকে নিয়ে অরবিটার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। পরে অরবিটার ও রিটার্নার দক্ষিণ আটলান্টিকের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার উপরে পৃথক হয়ে যায়। রাত ১টা ৩৩ মিনিটে ‘ছাং’এ ৫’য়ের রিটার্নার পৃথিবীপৃষ্ঠের ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসে। তখন এর গতিবেগ ছিল সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার। পূর্বনির্ধারিত উচ্চতায় নামার পর রিটার্নারটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে বিশেষভাবে বাউন্স করে উপরে উঠে যায় এবং তারপর আবার নামতে শুরু করে। এরপর সেটি দ্বিতীয়বার বায়ুমণ্ডলে বাউন্স করে উপরে উঠে যায় এবং আবার বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। একাধিকবার বাউন্স করানোর উদ্দেশ্য ছিল রিটার্নারের গতি কমিয়ে দেওয়া। এরপর পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার উচ্চতায় এসে রিটার্নারের প্যারাসুট খুলে যায়। পরে প্যারাসুটের সাহায্যে রিটার্নার অন্তর্মঙ্গোলিয়ার নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা পরে রিটার্নারকে খুঁজে বের করেন। 

জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের উপ-মহাপরিচালক উ ইয়ানহুয়া সাংবাদিকদের বলেন, “মিশন সফল হয়েছে। দশে দশ যথেষ্ট নয়। এ সাফল্যের জন্য আরও বেশি নম্বর দিতে হবে।” 

তিনি বলেন,  “মিশন সম্পূর্ণ সফল। চন্দ্র প্রদক্ষিণ, চাঁদে অবতরণ ও চাঁদের নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন -- তিনটি ক্ষেত্রেই মিশন সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। মিশনের সমাপ্তি একটি মাইলফলক ঘটনা। একদিকে, মিশন থেকে প্রাপ্ত চন্দ্রনমুনা চীনা ও বিশ্বের বিজ্ঞানীদের গবেষণার নতুন রসদ যোগাবে; অন্যদিকে, এই সফল মিশন মহাবিশ্বের রহস্য অন্বেষণ করতে এবং পরবর্তী অনুসন্ধান ও অন্যান্য মিশনের ভিত্তি স্থাপন করবে।”

জানা গেছে, ‘ছাং’এ ৫’ চন্দ্রযানের রিটার্নারকে বেইজিংয়ে আনার পর সেটি খোলা হবে। চাঁদের নমুনা হস্তান্তরের জন্য জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। চন্দ্রানুসন্ধান প্রকল্পের তৃতীয় দফার প্রধান ডিজাইনার হুহাও বলেন, “আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট। ল্যান্ডিং পয়েন্টটি খুব সঠিক হয়েছে। রিটার্নারের প্যারাসুট খোলার সময় ও অবতরণের স্থান বাতাসের গতিবিধির ওপর নির্ভর করছিল। এখনও সুনির্দিস্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্ধারিত অবতরণ পয়েন্টের খুব কাছাকাছিই রিটার্নার অবতরণ করেছে। চন্দ্রানুসন্ধান প্রকল্পকে সফল করতে আমরা ধাপে ধাপে খুব কঠিন কঠিন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছি।”

‘ছাং’এ ৫’ মিশনের মাধ্যমে চিন এই প্রথম তিনটি কাজ একসঙ্গে করতে পেরেছে -- চাঁদ প্রদক্ষিণ, চাঁদে অবতরণ ও চাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। এছাড়া, চাঁদের কক্ষপথে অরবিটারের সঙ্গে অ্যাসেন্ডারের মানববিহীন ডকিংও ছিল চিনের বিশেষ অর্জন। ‘ছাং’এ ৫’ ছিল এখন পর্যন্ত চিনের সবচেয়ে জটিল মহাকাশ মিশন। চিন তার নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই জটিল মিশন সম্পন্ন করেছে। এ মিশনকে বিদেশি বিজ্ঞানীরা ‘দুঃসাহসী’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। বস্তুত, এই মিশনের সাফল্য মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল চিনকে তথা গোটা বিশ্বকে।

- ওয়াং হাইমান চায়না মিডিয়া গ্রুপের একজন কর্মী