NAVIGATION MENU

কড়া লকডাউন ২৩ জুলাই থেকে, বন্ধ থাকবে সব শিল্প-প্রতিষ্ঠান


শুধু ২১ জুলাই ঈদ উৎসব পালনের অপেক্ষা। গ্রামের বাড়িতে ঈদ উৎসব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ অর্থাৎ ১৫ থেকে ২২ জুলাই অবধি লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপরই করোনার বাড়-বাড়ন্ত রোধে দেশে জারি হয়েছে কড়া লকডাউন। আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কড়া লকডাউন জারি করছেন সরকার।

এবার সরকারের ঘোষিত লকডাউনের সময় রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস-সহ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ বাড়লেও ঈদ উপলক্ষে করোনাবিধি খানিকটা শিথিল করেছে বাংলাদেশ। আর এতেই রীতিমতো অশনিসংকেত দেখছে দেশের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিটি আরও ১৪ দিন কঠোর বিধিনিষেধ চালিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছিল। এবার তাই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করায় কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

বিধিনিষেধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এর অংশ হিসেবে কোরবানির পশুর হাট বন্ধ রেখে ডিজিটাল হাট পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হয়েছে শপিংমল ও দোকানপাট।

ঈদ উপলক্ষে শিথিল শাটডাউনের আটদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি আসন ফাঁকা রেখে চলছে সব গণপরিবহণ। তবে এই সময়ে সরকারি অফিস ভারচুয়ালি খোলা থাকলেও বন্ধ থাকছে বেসরকারি অফিস। আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

এতে লকডাউনের সময় সব ধরনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ পালিত হয়। এ সময় সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন বন্ধ থাকলেও খোলা ছিল শিল্প-কারখানা। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর নিশ্চিত খবর পাওয়া গেল সব শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকছে।  

এদিকে টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মডার্নার ৩০ লাখ করোনাভাইরাসের টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার আজ শনিবার এক টুইটে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিদেশ মন্ত্রকের  জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মডার্নার ওই ৩০ লাখ টিকা সোমবার ঢাকায় পৌঁছাবে।

এ নিয়ে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মডার্নার ৫০ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এবং সরাসরি বিভিন্ন দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ হওয়া তিন কোটি টিকার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

২২ জুন হোয়াইট হাউস করোনার টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের পাশাপাশি এশিয়ার ১৮টি দেশকে নতুন করে ১ কোটি ৬০ লাখ টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া বিশ্বের আরও ৩০টি দেশ ও জোটকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যে ১ কোটি ৪০ লাখ টিকা দেবে, সেই তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

জুনের ৩ তারিখ হোয়াইট হাউস আড়াই কোটি টিকা বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছিল। তাতেও এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ৭০ লাখ টিকা যেসব দেশে দেওয়া হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র তার মজুত থেকে যে টিকা সরবরাহ করবে, তা হবে ফাইজার, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের উৎপাদিত। তবে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পেলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।  

অপরদিকে চিনের সিনোফর্মের আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ।স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, আজ শনিবার রাত ১১ টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চিনের সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে।

একই দিন রাত ৩টায় আরও ১০ লাখ ডোজ টিকা আসবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন।এর আগে গত ১৪ জুলাই চিনের ওষুধ কোম্পানি সিনোফার্ম থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এসব টিকা আগের চুক্তি মূল্যের চেয়ে কম দামে কেনা হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে টিকা কেনা হচ্ছে। কত দামে এসব টিকা কেনা হচ্ছে তা প্রকাশ করেননি তিনি।

মন্ত্রিসভা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃক চিনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনাল থেকে চুক্তিবদ্ধ দেড় কোটি ডোজের মধ্যে অবশিষ্ট এক কোটি ৩০ লাখ ডোজ এবং নতুন প্রস্তাবিত ২০ কোটি ডোজ টিকা অর্থাৎ সর্বসাকুল্যে দেড় কোটি ডোজ আগের চুক্তিপত্রে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে 'সিনোফার্ম ভ্যাকসিন সাপ্লিমেন্টাল এগ্রিমেন্ট-১’ এর আওতায় সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য দেড় কোটি ডোজের অতিরিক্ত টিকা প্রয়োজন হলে তাও সিনোফার্ম থেকে সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে টিকা কেনার চুক্তি হওয়ার আগেই দুই দফায় সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন উপহার পাঠিয়েছিল চিন সরকার। গত ৩ জুলাই রাতে ও ৪ জুলাই সকালে দুই চালানে আরও ২০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেশে পৌঁছায়।

এস এস