NAVIGATION MENU

কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লোং পিং ও বাংলাদেশের সম্পর্ক


ওয়াং ছুই ইয়াং জিনিয়া

‘হাইব্রিড ধানের জনক’, চীনের প্রকৌশল একাডেমির সদস্য ও ‘প্রজাতন্ত্রপদক’ বিজয়ী ইউয়ান লোং পিং ২০২১ সালের ২২শে মে ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লোং পিং উদ্ভাবিত হাইব্রিড বা উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার নানা দেশে চাষ হয়। এটি স্থানীয় খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রেখেছে। 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের ধান উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ টন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের মোট ধান উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ২ কোটি টনের কিছু বেশি এবং দেশে গড়ে বার্ষিক ঘাটতি ছিল ১০ লাখ টনের বেশি। এ কারণে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হতো। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলে অবস্থিত এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূমির অঞ্চল। বাংলাদেশের ৫৫০ কিলোমিটার উপকূলরেখাসহ পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ প্রচুর জলজসম্পদের অধিকারী। সুতরাং বাংলাদেশ ধান চাষের জন্য খুব উপযোগী একটি দেশ। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও শস্যসম্পদের অভাব থাকায় ধান উত্পাদন সেভাবে বাড়েনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশে ধান উত্পাদন সমস্যা সমাধানে কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লোং পিংকে বাংলাদেশ পরিদর্শন ও গবেষণার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আশা করা হয় যে, ধানের ফলন বাড়াতে চীনের হাইব্রিড ধান বাংলাদেশে উত্পাদন করা যাবে। 

ইউয়ান লোং পিং ১৫ দিনের কিছু বেশি সময় বাংলাদেশে মাঠ-ঘাট পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে গবেষণা করেন। ইউয়ান লোং পিংয়ের উদ্দেশ্য ছিলো “বিশ্বের মানুষের কল্যাণে উচ্চ  ফলনশীল ধানের বিকাশ ঘটানো।” ১৯৮০-এর দশক থেকে ইউয়ান লোং  পিং ও তার দল প্রায় ৮০টি উন্নয়নশীল দেশে ১৪ হাজারেরও বেশি উচ্চ ফলনশীল ধান-সংক্রান্ত প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণ দেন। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মাদাগাস্কারসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করা হয়। বর্তমানে এ ধানের বার্ষিক চাষের পরিমাণ ৮ মিলিয়ন হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হচ্ছে স্থানীয় উন্নত জাতের তুলনায় প্রায় ২ টন বেশি। 

ইউয়ান লোং পিংয়ের উচ্চ ফলনশীল ধান বাংলাদেশের খাদ্য সংকট সমাধানে সহায়তা করেছে। এখন বাংলাদেশ ১৬০টি চীনা ধানের জাত নিবন্ধ করেছে। চীন বাংলাদেশে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। চীন প্রতিবছর বাংলাদেশে ৯ হাজার একর জমিতে ধানের বীজ উত্পাদন ও চাষ করে। বাংলাদেশের প্রচলিত ধানের জাতের তুলনায় চীনের উচ্চ ফলনশীল ধানের উত্পাদন ২০ শতাংশেরও বেশি হয়; যা বাংলাদেশের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চীন প্রতিবছর নতুন ধানের জাত ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহায়তা দেয়। চীন বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন কোম্পানির জন্য সঙ্কর ধানের প্রযুক্তি-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ব্র্যাক তাদের নিজস্ব কয়েকটি সঙ্কর ধানের বীজ চাষ করছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্রি হাইব্রিড ধান-১, হাইব্রিড ধান-২, হাইব্রিড ধান-৫ এবং ব্র্যাকের শক্তি।

-    ওয়াং ছুই ইয়াং জিনিয়া চায়না মিডিয়া গ্রুপের একজন কর্মী