NAVIGATION MENU

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে


মো: শাইখুল ইসলাম রতন 

নানাপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে ফের করোনাভাইরাস থাবা বিস্তার করেছে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে করোনা মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে। 

আর এ চ্যালেঞ্জ হলো সংক্রমণ যেনো নাগালের বাইরে চলে না যায় এটি নিশ্চিত করা। এটি যেনো আমাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বোঝা হয়ে না যায়। অবশ্য করোনা  মোকাবেলায় চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

অর্থাৎ দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থামাতে এই মুহুর্তে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ সনাক্ত হওয়ার পরে ধীরে ধীরে এটি বেড়ে যায়। এক সময় সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে এবং লোকজনের মধ্যে ভয়ে পেয়ে জাকিয়ে বসে। তবে মানুষ সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। 

তবে শীত আসার আগে করোনার প্রকোপ হ্রাস পাওয়ায় লোকের মধ্যে এ মহামারী সম্পর্কে উদাসীনতা দেখা দেয়। গত আগস্টের পর থেকে দেশে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা  বৃদ্ধি পায়। কেননা লোকজনের বাজার যাওয়া, বাস, ট্রেন, লঞ্চ ব্যবহার শুরু করেন। পাশাপাশি অফিস অফিসও খুলে যায়।

করোনাভাইরাস রেধে জনগণকে সরকারী নির্দেশনা অধিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এটা দেখা যায়- স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম না মেনে অনেক লোক রাস্তায় চলাচল করছে। এজন্য তাদের  সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার, স্যানিটাইজ দিয়ে হাত পরিস্কার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে। 

ঢাকার বাইরের অনেক জায়গায় লোকেরা করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য সরকারী নির্দেশনাগুলি খুব কমই অনুসরণ করছে। ইদানীং ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরেও করোনার সংক্রমণ রোধ করার জন্য যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োজন তা মানা হচ্ছে না।

মানুষ সামাজিক দূরত্বের নিয়ম না মেনেই রাস্তায়, কাঁচাবাজারে, শপিংমলগুলিতে, বাসে ও লঞ্চে, অফিসে এবং আদালতে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। যা একটা ভয়ের ব্যাপার।

ইউরোপের অনেক দেশেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এ কারণে অনেক দেশ ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফার লকডাউন ঘোষণা করেছে।

শীতকালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়েও চিন্তিত বাংলাদেশ। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার ক্ষমতা রয়েছে। তবে লোকেরা স্বাস্থ্যবিধির নিয়মসমূহ না মানলে ভবিষ্যতে এটি আবারও ভয়াবহ হয়ে দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে সবারই মুখে মাস্ক পড়া খুব জরুরি। কেননা দেশে ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত মুখে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

করোনা প্রতিরোধে লোকদের সরকারী নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে যতোক্ষণ না লোকজন সচেতন হবে ততক্ষন কাঙ্খিত সফলতা পাওয়া যাবে না। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লোকেরা যদি স্বাস্থ্য নির্দেশিকাগুলি উপেক্ষা করে তবে সংক্রমণ বাড়তে পারে। কারণ শীতকালে, দেশজ প্রচুর সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক অনুষ্ঠান হয় যা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার । অন্যথায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। আমাদের পরিবারকে রক্ষা করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তবে তথ্য-উপাত্তে  দেখা যায় যে, দেশের বেশিরভাগ লোকে ঘরে বসে এবং সুরক্ষিত হয়ে তাদের কাজ করছেন। এটি ভাল, তবে আমাদের অবশ্যই এটি চালিয়ে যেতে হবে। 

সরকারী নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা জীবন বাঁচাতে পারি। এখন আগের চেয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে লোকেরা অবশ্যই কমপক্ষে বাইরে বের হলে একটি মাস্ক পড়বে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবে।

করোনার হাত থেকে বাঁচতে ন্যূনতম বেসিক নিয়মগুলো মেনে চলা প্রয়োজন। যেসব কাজ ঘরে বসেই করা যায়। সেজন্য কর্মীদের তাদের বাড়ি থেকে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।  

ব্যবসা এবং কর্মক্ষেত্রের মানদণ্ডগুলি পূরণ করে এমন শ্রমিকদের মনোনীত করা, এবং অবশ্যই সেই ব্যক্তিগত কাজের কার্য সম্পাদনে কর্মী ও পৃষ্ঠপোষকদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব অনুশীলন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

জনগণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন।  

দেশে আজ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসন্ন। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যদি এখন সর্বাধিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে এর পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

এজন্য অবশ্যই সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। 

আমাদের অসচেতনতা কেবল নিজের জীবনকেই বিপদে ফেলছি না বরং করোনাভাইরাস হলে ছড়িয়ে পড়ে অন্যের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে। 

লোকেরা কেন সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছে না তা আমাদের গভীর চিন্তায় ফেলে দেয়। অতীতের অন্যান্য সকল বিপর্যয়ের মতো আমরাও করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে চাই। আমাদের অবশ্যই সরকারী নির্দেশনা মানতে হবে। আমাদের খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস এখনও রয়ে গেছে এবং আমাদের কাছে এটির জন্য কোন ভ্যাকসিন নেই। এরজন্য আমাদের অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা এবং সামাজিক দূরত্ব মানা প্রয়োজন। 

করোনা সংশ্লিষ্টরা যেভাবে বলছেন তা আমাদের মানতে হবে।  যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন এবং তার সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদেরকে চিহ্নত করে কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে । 

মো:শাইখুল ইসলাম রতন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বাংলাদেশ পোস্ট


ওআ/ এস এস