ন্যাভিগেশন মেনু

অভিন্ন উন্নয়ন বেগবান করছে ‘এক অঞ্চল এক পথ’


গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব মহামারী পরিস্থিতির অবনতি হয়েই চলছে। সেসঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ দিন দিন জটিল হচ্ছে। তারপরেও ‘এক অঞ্চল এক পথের’ যৌথ নির্মাণ স্পষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে আরো বেশি দেশ ‘বন্ধু চক্রে’ যোগ দিয়েছে। বর্তমানে চীন ১৪৯টি দেশ, এবং ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ২ শতাধিক সংশ্লিষ্ট সহযোগিতামূলক দলিল স্বাক্ষর করেছে।

গত ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেন ২৩টি দেশের ১৮০টি শহরে পৌঁছেছে। আন্তঃসীমান্ত ই-বাণিজ্য বিদেশি গুদামের সংখ্যা ৮০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ হাজারটিতে দাঁড়িয়েছে। চীন-লাওস রেলপথ এবং ইসরাইলের হাইফা নিউ পোর্টসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২১ সালে চীনের আমদানি-রপ্তানি পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৬ ট্রিলিয়ান মার্কিন ডলার অতিক্রম করে। যা ২০২০ সালের চেয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ বরাবর দেশে বৃদ্ধি ছিল ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২১ সালে চীনের বৈদেশিক অ-আর্থিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ পরিমাণ ৩ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ বরাবর দেশে বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ চীন ১২০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ২১০ কোটি ডোজ কোভিড টিকা প্রদান করেছে। এর অধিকাংশ ‘এক অঞ্চল এক পথ’ বরাবর দেশগুলোতে পাঠানো হয়। যা কার্যকরভাবে মহামারী প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেয়। এক কথায়, ‘এক অঞ্চল এক পথের’ নির্মাণ অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে।

২০২১ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৪৯টি ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণকারী দেশের মধ্যে চীনসহ উচ্চ আয়ের দেশ শুধু ৩৫টি। বাকী ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ মাঝারি ও নিম্ন আয়ের দেশ। ১৪৯টি দেশের মাথাপিছু জিডিপি ৯ হাজার ৩২ মার্কিন ডলার। যা বিশ্ব গড় মানের ৮৩ শতাংশ। সুতরাং কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবান এবং জনগণের আয় বৃদ্ধি করা যায়, তা আজকের বিশ্বের সাধারণ উদ্বেগসমূহের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণ করতে চীন তার নিজের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য দেশগুলোকে রাজপথ, রেলপথ, বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুততর করছে এবং এর ভিত্তিতে শিল্প পার্ক অঞ্চল ও নির্মাণ শিল্পসহ বিভিন্ন নির্মাণ সমর্থন ও সাহায্য দিয়ে আসছে। যাতে দ্রুততার সাথে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন বাস্তবায়ন এবং দেশের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা যায়। এই উন্নয়ন পর্যায়ে বিরাট অর্থ সমর্থন দরকার, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থের অভাব আছে। সুতরাং যৌথভাবে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোয় চীন এই কাঠামোয় অন্যান্য দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক অর্থায়ন সরবরাহ করার পাশাপাশি এসব দেশের জন্য বাজার খুলে। ফলে এসব দেশের জন্য শক্তিশালী নতুন চালিকাশক্তি প্রদান করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। মোটামুটি অনুমান অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ উদ্যোগ উত্থাপন করার পর থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব দেশে চীনের মালামাল বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এসব দেশে অ-আর্থিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

যৌথভাবে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণের মাধ্যমে দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগের মান আরো উঁচু হয়, শিল্প যোগাযোগ আরো ঘনিষ্ঠ হয়। ফলে সুষ্ঠু অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে অভিন্ন উন্নয়ন বেগবান করা হয়। সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণের কল্যাণ ও সুখ অন্বেষণে বাস্তব কল্যাণ অর্জন করতে চীন ইতিবাচকভাবে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ প্রস্তাব করে।

২০১৭ সাল থেকে চীন লাওস, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের ৬টি গ্রাম বাছাই করে, তিন বছরব্যাপী ‘পুরো গ্রামের প্রচার’ ও ‘লক্ষ্যমাত্রা দারিদ্র্যবিমোচন’ পরীক্ষা শুরু করে। রেলপথ, রাজপথ, বন্দর ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন উপায়ে এতদঞ্চলের ‘হাইপারলিঙ্ক’ বাস্তবায়ন করে। স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে বৈশিষ্ট্যময় শিল্প উন্নয়ন করে। কর্মচারী নিয়োগ করে পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত পেশা ও চাকরি তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও জনগণের দারিদ্র্যবিমোচন করতে সরাসরি সাহায্য দেয়। পরীক্ষাগুলোর সাফল্য চীনের দারিদ্র্যবিমোচন অভিজ্ঞতা কার্যকর হবার প্রমাণ।

কর্মসংস্থান বাড়াতে যৌথভাবে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণ বিনিয়োগ, বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সহযোগিতা ও পার্ক অঞ্চল উন্নয়নসহ বিভিন্ন উপায়ে অনেক স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত ৪৬টি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা অঞ্চলগুলো স্থানীয় জনগণের জন্য মোট ৩ লাখ ৯২ হাজারটি কর্মসংস্থান সরবরাহ করে এবং স্বাগতিক দেশে ৬৬০ কোটি মার্কিন ডলার কর প্রদান করে। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে আরো ভালোভাবে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যকর এবং ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণের সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফলাফল অর্জন করতে যৌথভাবে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণের উচ্চমানের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবুজ ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণ পরিস্থিতিকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চীন যৌথ নির্মাতা দেশের জ্বালানি প্রকল্পের প্রধান নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প পরিচালনা করেছে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে চীন আবারো স্পষ্টভাবে বলছে, ব্যাপকভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানির সবুজ উন্নয়নকে সমর্থন করতে চীন বিদেশে আর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করবে না।

এছাড়া উচ্চমানের ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণ নিশ্চয়ই উন্মুক্ত। একদিকে, চীন আরো বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ নির্মাণ তালিকায় যোগ দেয়াকে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তঃযোগাযোগ নির্মাণের মাধ্যমে চীনের স্থল, নৌ ও বিমান মালবাহী পরিবহন দ্রুততার সাথে সম্প্রসারিত করে।

চীনের পেইতৌ স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম যৌথ নির্মাতা দেশ বিশেষ করে আফ্রিকান দেশে ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি স্থানীয় স্মার্ট কৃষি, খনি শিল্প নিষ্কাশন ও ডিজিটাল অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রায় ৯ বছরের অভিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে উচ্চমানের ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণ আর কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি সফল অনুশীলনে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চল এটা থেকে বিশাল লভ্যাংশ পেয়েছে। - সূত্র: সিএমজি