NAVIGATION MENU

অনলাইন ডেলিভারি দিয়ে স্বাবলম্বী হলেন সিনচিয়াংয়ের তুরসুন


ছাই ইউয়ে ও ওয়াং ছুই ইয়াং

পঁচিশ বছর বয়সী উইগুর তরুণ মামাতালি তুরসুন অনেক ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। সিনচিয়াংয়ের শাচা জেলার তাগড়কি থানার দুটি ডেলিভারি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি প্রতিদিন কাজ শেষ করে রাত ১০টার পর বাড়িতে ফেরেন ।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি জেলা ও থানায় আমাদের কোম্পানির শাখা আছে। আমি গ্রামের পুনরুজ্জীবনে ভূমিকা রাখতে চাই।’

বর্তমানে মামাতালির দুটি কোম্পানিতে ৯৮ জন কর্মী আছেন। দুটি কোম্পানি ৭৮৫টি রেস্তরাঁ, ৫০টি হোটেল ও ৫২টি সুপারমার্কেটের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি স্থানীয় মানুষের চোখে একজন সফল মানুষ। কিন্তু কে কল্পনা করতে পারে যে, সাত বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালে তাঁর পরিবার একটি নিবন্ধিত দরিদ্র পরিবার ছিল।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগে আমার মা অসুস্থ ছিলেন। আমরা প্রচুর ঋণ নিয়েছিলাম। আমার বাবা একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। আমার দু’টি ছোট বোন স্কুলে লেখাপড়া করত।’

বেশি আয়ের আশায় মামাতালি উরুমুছিসহ বিভিন্ন বড় শহরে কাজ করতেন। তখন তিনি বড় শহরগুলোয় ডেলিভারি ব্যবসার সুবিধা বুঝতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর জন্মস্থানে ডেলিভারি ব্যবসার সম্ভাবনা আছে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,

 ‘আমি প্রথমে জন্মস্থান উরুমুছির একটি ডেলিভারি কোম্পানির শাখা প্রতিষ্ঠা করি। মুনাফা অর্জন করার পর আমি নিজের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলি।’

মামাতালি বলেন, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে সহায়তা করেছেন, তাকে টাকা ধার দিয়েছেন। শাচে জেলার কর্মসংস্থান বিভাগ তাঁকে দুই হাজার ইউয়ান ভর্তুকি প্রদান করেছে। এরপর তিনি স্থানীয় রেস্তরাঁ, হোটেল ও দোকানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলার চেষ্টা করতে থাকেন। প্রথমে কোন প্রতিষ্ঠান তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা চালাতে চাইছিল না। কিন্তু আস্তে আস্তে তাঁর ব্যবসা ভাল হলে আরও বেশি মানুষ তাঁর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী হয়।

এখনো মামাতালির মনে আছে যে, ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম ডেলিভারি অর্ডার পাওয়ার কথা। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম অর্ডারটি আসে ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে। আমি বৈদ্যুতিক মোটোরসাইকেল চালিয়ে গ্রাহককে পণ্য ডেলিভারি দেই। আমি তাঁকে ফ্রি পানীয়ও দেই। গ্রাহক অনেক খুশি হন। তিনি বলেছিলেন, ডেলিভারি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় তিনি অনেক খুশি। প্রথম দিকে পরিস্থিতি অনেক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু আমি কখনো আশা ত্যাগ করিনি। আমি নিজের ব্যবসা উন্নয়নের জন্য পরিশ্রম অব্যাহত রাখি।’

২০১৯ সালের মে মাসে তিনি উরুমুছি’র ডেলিভারি কোম্পানি ছেড়ে দেন এবং এক বন্ধুর সঙ্গে নিজের ডেলিভারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানি প্রতিষ্ঠার চতুর্থ সপ্তাহে তাঁদের পরিষেবার আয়তন নিজের থানা থেকে চারপাশের ৮টি থানায় প্রসারিত হয়। তাঁদের অনেক স্থায়ী গ্রাহক আছে। তাঁর পুরনো গ্রাহক পহরিদন হুসেইন বলেন,

 ‘২০১৯ সালের গ্রীষ্মকালে আমার মা অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু আমি রান্না করতে পারতাম না। আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে মামাতালির ডেলিভারি কোম্পানির কথা জেনেছি। তাঁর ডেলিভারির গতি অনেক দ্রুত। যখন আমি ডেলিভারি পাই, তখন খাবার গরম থাকে। আমি খুবই সন্তুষ্ট। বর্তমানে আমি প্রতি দুই বা তিন দিন অন্তর একবার ডেলিভারির অর্ডার করি। আমি অন্য বন্ধুদেরকে তাঁর ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।’

ডেলিভারি শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় রেস্তরাঁগুলোর অনলাইন বাজার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইয়েঙ্গি বাঘোইলা রেস্তোঁরা মামাতালি’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রথম রেস্তোঁরাগুলির মধ্যে একটি। ইয়েঙ্গি বাঘোইলা রেস্তোঁরার মালিক হর্গভেল তুরসুন বলেন,

 ‘২০১৯ সালের মে মাসে আমি মামাতালির সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করি। আগে কোনো কোনো বাসিন্দা আমাদের রেস্তরাঁর খাবার অর্ডার করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের ডেলিভারি কর্মী নেই। কিন্তু মামাতালির সঙ্গে সহযোগিতা চালানোর পর আমাদের রেস্তরাঁর ডেলিভারি অর্ডার অনেক বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০টি ডেলিভারি অর্ডার পাই।’

মামাতালির কোম্পানির মোট ৯৮ জন কর্মী আছেন। তিনি কর্মীদেরকে ডেলিভারি পাঠানোর জন্য মোটরসাইকেল সরবরাহ করেন, তাঁদের জন্য ফ্রি ল্যাঞ্চ ও ডিনার সরবরাহ করেন এবং তাঁদেরকে পেনশন, চিকিত্সা, বেকারত্ব, কাজের সাথে সম্পর্কিত আঘাত, প্রসূতি বীমা এবং আবাসন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ প্রদান করেন। গত বছর মহামারীর অবস্থায় কোম্পানির ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু মামাতালি ও কর্মীরা একসঙ্গে কঠিন এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। গত জানুয়ারিতে মামাতালি নিজের ডেলিভারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ভবিষ্যতের উন্নয়ন সম্পর্কে মামাতালি বলেন,

 ‘তরুণ-তরুণীদের উচিত বেশি জ্ঞান অর্জন করা। যে যুবক আমাদের কোম্পানিতে যোগ দিতে চান, তাদের স্বাগত জানাই। আমি চীনের সেরা সংখ্যালঘু ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবো।’

- লেখকদ্বয় চীনা সাংবাদিক। তাঁরা চায়না মিডিয়া গ্রুপের বেইজিং কার্যালয়ের বাংলা বিভাগে কর্মরত।